ভাড়া না মারলি আজ না খাইয়ে থাকা লাগবি

ভাড়া না মারলি আজ না খাইয়ে থাকা লাগবি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-‘পুলিশ ধততি পারে জাইনেও রাস্তায় নামিচি, কী করব বাবা পেট তো মানে না। দুই ঘুণ্টা বইসে থাইকেও ভাড়া পাচ্চিনি। দুইশ ট্যাকা তো ভাড়া মাত্তি হবি না হলি আজ না খাইয়ে থাকা লাগবি।’

কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়া শহরের রাজার হাট এলাকা থেকে রিকশাচালক উজির আলী।

করোনা সংক্রমণ রোধে সারাদেশে সাত দিনের লকডাউন চলছে। এই লকডাউনে বিপাকে পড়েছেন উজির আলীর মতো কুষ্টিয়া শহরের পাঁচশোর বেশি রিকশা ও অটোচালক। টানা লকডাউনে যানবাহন নিয়ে বাইরে বের হতে না পারায় প্রান্তিক আয়ের এসব মানুষ পড়েছেন বিপাকে।

কুষ্টিয়ায় পৌরসভায় নিবন্ধিত রিকশা ও অটোর (ইজি বাইক) সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। এছাড়া, প্রতিদিন পৌর এলাকার বাইরে থেকে অন্তত ২ হাজার রিকশা ও অটোচালক তাদের যানবাহন নিয়ে শহরে আসেন কাজের সন্ধানে। এসব রিকশা ও অটোচালকের ওপর নির্ভরশীল তাদের পরিবারের কমপক্ষে ৪০ হাজার মানুষ। চলতি মাসে দুদফার লকডাউনে চরম বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া এসব মানুষ। প্রথম দফার লকডাউনে কিছু কিছু রিকশা ও অটোরিকশা শহরে চললেও দ্বিতীয় দফার লকডাউনে ১০ ভাগও চলছে না। লকডাউনের মধ্যে রাস্তায় নামায় গত কয়েকদিন বেশ কিছু রিকশা ও অটো জব্দ করে পুলিশ। ৪৮ ঘণ্টা আটকে রাখার পর এসব বাহন ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শহরের বাইরে থেকে কোনো মানুষ আসতে পারছে না। আবার শহরের অধিকাংশ দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় লোক সমাগম একেবাইরেই কম। ফলে যেসব চালক ভয়-ডর উপেক্ষা রাস্তায় নামছেন তারাও তেমন ভাড়া পাচ্ছেন না।

শহরের সুখনগর বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মণ্ডল ব্যাটারি চালিত রিকশা চালান কুষ্টিয়া শহরে।
তিনি জানান, তিন ছেলে মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় তাতেই কোনো মতে চলে সংসার। কিন্তু লকডাউনের কারণে রিকশা নিয়ে রাস্তায় নামতে পারেননি তিনি। এখন পরিবারের সদস্যদের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেবেন কীভাবে তা ভেবে পাচ্ছেন না।

অটোরিকশা চালক আলিম শেখ বলেন, ‘শহরে কত চার চাকার গাড়ি চলছে। কিন্তু পুলিশ তাদের কিছু বলছে না। পুলিশ আইনের কথা শোনায়। কিন্তু আইন কেবল আমার মতো গরিব রিকশাচালকদের জন‌্য। কেউ তো আর এক কেজি চাল দিয়ে সাহায্য করছে না, কেবল আইন দেখাচ্ছে।’

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যেভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে তাতে লকডাউন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে এক্ষেত্রে সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের রুটি রুজির কথাও মাথায় রাখতে হবে। তারা যাতে কাজ বন্ধ থাকলেও দুবেলা দুমঠো খেতে পায় সেদিকে সরকারের নজর দিতে হবে। না হলে সামজিক বিপর্যয় দেখা দেবে।’

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: কামাল উদ্দিন
মোবাইল: ০১৮১৯০৩২০৯০
৬০/বি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হইতে প্রকাশিত। মোবাইল: 01819032090, ইমেইল: [email protected]