কুমিল্লায় বিএনপির নেতা সোহেল হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি

কুমিল্লায় বিএনপির নেতা সোহেল হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি

কুমিল্লা নগরীতে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে যুবদল কর্মী এস এম তৌহিদ সোহেল হত্যা মামলায় যুবদলের অপর কর্মী আহসান হাবীব মিঠুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি আহসান হাবীব মিঠু কুমিল্লার নগরীর মধ্য রেইসকোর্স এলাকার কদম আলীর ছেলে। বর্তমানে মিঠু পলাতক রয়েছেন। বুধবার কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-মামুন এই রায় দেন। এছাড়া বাকী দুই আসামি মোস্তফা জামান ও মো. শাহেদ হাসানকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এড. জাঙ্গীর আলম ভূইয়া জানান, ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর নগরীর রেইসকোর্স লাইফ অব বেঙ্গল রেস্টুুরেন্টে কুমিল্লা জেলা বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে যুবদলকর্মী আহসান হাবীব মিঠুর সাথে আরেক কর্মী মধ্য রেইসকোর্স এলাকার আবদুল আজিজ ভূইয়ার ছেলে এসএম তৌহিদ সোহেলের হাতাহাতি হয়। অনুষ্ঠান শেষে সোহেল তার কর্মীদের নিয়ে রেইসকোর্স এলাকার আজাদ হাসপাতাল সংলগ্ন শাহীন কামালের হোটেলের সামনে অবস্থান করে। ওই সময় মৃত্যুদ- প্রাপ্ত আসামি মিঠু তার দলবল নিয়ে এসে সোহেলের বুকের দুই পাশে ছুরিকাঘাত করে। সোহেলকে প্রথমে কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতাল পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তিনি মারা যান। এই ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী বদরুন্নাহার লুনা বাদী হয়ে আহসান হাবীব মিঠু ও তার ভাই বর্তমানে দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মোস্তফা জামানকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হত্যার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে মো. শাহেদ হাসান নামে আরও একজনকে সংযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার বাদী তৌহিদ সোহেলের স্ত্রী বদরুন নাহার লুনা বলেন, আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে তাদের মধ্যে আহসান হাবীব মিঠু ও তার ভাই মোস্তফা জামান। এছাড়াও আসামি আহসান হাবীব মিঠু আদালতে স্বাক্ষী দিয়েছে তার সহযোগী হাসানও খুনের ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত। আদালত আজ পলাতক আহসান হাবীব মিঠুকে মৃত্যুদ- দিলেও তার ভাই মোস্তফা জামান ও হত্যার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত হাসানকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। এখন বেকসুর খালাস পাওয়া আসামির জন্য রেইসকোর্স এলাকায় থাকা সম্ভব হবে না। আমরা এ রায় মানি না। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।
বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এড.আলী আক্কাস। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: কামাল উদ্দিন
মোবাইল: ০১৮১৯০৩২০৯০
৬০/বি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হইতে প্রকাশিত। মোবাইল: 01819032090, ইমেইল: amaderodhikar@gmail.com