নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কর্মকর্তার উদাসিনতায় করোনায় নাকাল

নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কর্মকর্তার উদাসিনতায় করোনায় নাকাল

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর:-করোনা ভাইরাস নামক জুজুর ভয়ে যখন দেশের মানুষ কম্পমান সেই সময়েই করোনা সন্দেহে সংগৃহীত রক্তের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠাতে কালক্ষেপনের অভিযোগ উঠেছে এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার দেব দাস দেবের উদাসিনতায় কোভিড-১৯ এর আগ্রাসন বাড়ার এসব অভিযোগ উঠে। ওই কর্মকর্তার অবহেলায় প্রায় ৬ লক্ষ লোকের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি লকডাউন করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আক্রান্ত ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এমতাবস্থায় প্রাণঘাতী মহামারী কোভিড-১৯ ছাড়াও স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন এই গ্রামীন জনপদের চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, ২৩-মে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৮জন চিকিৎসক ও ৬জন স্বাস্থ্যকর্মীর কোভিড-১৯ এর রিপোর্ট পজেটিভ হয়। ওইদিনই স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতালটি লকডাউন করেন। পাশাপাশি আক্রান্তদের বাড়িগুলোও লকডাউন করে উপজেলা প্রশাসন। ওইদিনের আক্রান্ত ২৫জন সহ এ উপজেলায় ৩১ মে পর্যন্ত মোট ৬০ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪জনের মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত অন্তত ১০ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমনের শুরুর দিকে তিনি (ডাঃ দেব দাস দেব) বলতেন আমার (নাঙ্গলকোট) উপজেলায় অন্তত করোনার ছোঁয়া লাগবেনা। অথচ এখন সরকারী হাসপাতালই করোনার উর্ব্বর ভূমিতে রুপ নিয়েছে এবং বর্তমানে সেটি লকডাউনে রয়েছে। তাদের অভিযোগ, এখানে কর্মরত ডাক্তরদের রোস্টার ডিউটি না দিয়ে, সবাইকে একসাথে ডিউটি করানোর ফলে তারা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। ডাক্তারদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা না হলেও তিনি (ডাঃ দেব দাস দেব) তিন স্তরের নিরাপত্তায় থেকেছেন। তারা মনে করেন ডাঃ দেব দাস দেবের একঘেয়েমির কারণে একসাথে এতগুলো চিকিৎসক ও কর্মকর্ত-কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছেন। তাছাড়া দেশের অন্যান্য উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগ সন্দেহাতীত কোভিড নমুনা সংগ্রহ শুরুর প্রায় একমাস পর তিনি নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছেন। তিনি তাঁর অফিস কক্ষে কাউকে ঢুকতে না দিয়ে দরজায় থেকে কথা শুনে বিদায় করে দিতেন, তবু তিনি কেন কোয়ারান্টাইনে? এই প্রশ্ন আক্রান্ত ডাক্তারদের।
এদিকে, কিছু সাধারণ মানুষের নমুনা সংগ্রহের পর তিনি তা পরীক্ষার জন্য প্রায় দুইদিন পর পাঠিয়েছেন। নমুনা পাঠাতে তার এমন কালক্ষেপন সম্পূর্ণ অনৈতিক ছিল। এছাড়াও তিনি লোকবল সংকট ও পরিবহন সংকটের কথা বলে সাধারনের নমুনা সংগ্রহ করেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই তালিকায় কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ৬ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার কথা ভেবে অন্তত জরুরী ও বর্হিবিভাগ চালু রাখার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার দেব দাস দেব বলেন, করোনা ভাইরাস একটি বৈশি^ক মহামারী এর মোকাবেলায় উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্ত ও আমাদের সাধ্যানুযায়ী সবধরনের কর্মকান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়াও আমাদের লোকবল, লজিস্টিকসহ অন্যান্য অনেক সাপোর্টের সঙ্কটও রয়েছে। উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। এদেরমধ্যে যারা সুস্থ রয়েছে বা রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে তাদেরকে দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লকডাউন খুলে দিয়ে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টা আলহাজ¦ মো. সামছুদ্দীন কালু বলেন, প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন সতর্কতার সাথে সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সরকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবুও সরকারী হাসপাতালের কয়েকজন ডাক্তার ও কর্মী আক্রান্ত হওয়ায় সেটি লকডাউন করা হয়। আক্রান্তদের রিপোর্ট পুনঃপরিক্ষার জন্য পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আমরা পুনঃপরিক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি। ওই রিপোর্ট হাতে পেলে লকডাউন ওপেনের সিদ্ধান্ত বা সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ নেয়াতুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ দেব দাস দেবের যদি কোন ধরনের অবহেলা থাকে তা খতিয়ে দেখা হবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মী আক্রান্ত হওয়ায় সেটি লকডাউন করা হয়েছিল। আক্রান্ত চিকিৎসক ও কর্মীদের রিপোর্ট পুনঃপরিক্ষার পর রিপোর্ট হাতে পেলে লকডাউন খুলে দেয়া হবে বা বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: কামাল উদ্দিন
মোবাইল: ০১৮১৯০৩২০৯০
৬০/বি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হইতে প্রকাশিত। মোবাইল: 01819032090, ইমেইল: amaderodhikar@gmail.com