ভর্তি যুদ্ধ ! যাইবো ক্যামনে ?

ভর্তি যুদ্ধ ! যাইবো ক্যামনে ?

(মোঃ শাহজাহান ভূঁইয়া)

ভর্তি যুদ্ধ ! অংশগ্রহণের আগেই সারেন্ডার ? ট্রেনে সিট নাই ? বাসে সিট নাই ? যাইবো ক্যামনে ? আগামী ২৬ অক্টোবর সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, ২৯ অক্টোবর চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, ১নভেম্বর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, ৮ নভেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আবার একইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোম ইকোনমিক্স ইউনিট । পরে পরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় । গত কয়দিন যাবত্ কমলাপুর রেলষ্টেশান, আরামবাগ, ফকিরাপুল, অনলাইন ই- টিকেটিং সহ বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে টিকেট পেতে ব্যর্থ হলাম । টিকেট প্রাপ্তিতে ব্যর্থতা ও ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আত্ম সমর্পণের কথা বন্ধু শহীদুল আলম পাটোয়ারিকে জানালাম ।
আমি দমে গেলেও আমার বন্ধু দমেনা । এটা তার একটা ভালো দিক । তার অদম্য ইচ্ছা তাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে । যেমন অর্থনীতিতে তেমনি রাজনীতিতে । শিক্ষা ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ইতিবাচক । চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকা অবস্থায় নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন বক্সগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় । লেখাপড়ার বিষয়ে একেবারে আপোসহীন । তাই আমার টিকেট প্রাপ্তির অসহায়ত্বের কথা শুনে আমাকে কিছু না বলেই টিকেটের চেষ্টা চালাতে থাকেন । অনুরোধ জানালেন আমাদের এলাকার ঢাকায় কর্মরত পুলিশ ইন্সপেক্টর ইউসুফ আলী চৌধুরী পিপিএমকে । ইউসুফ আলী চৌধুরী সুযোগ পেলেই এলাকার মানুষকে সেবা দিতে কার্পণ্য করেন না । টিকেটের জন্য লেগে থেকে শেষ পর্যন্ত সিলেটে যাবার ট্রেনের টিকেট ব্যবস্থা করলেন । হাতে টিকেট পেলাম না, মনে হয়েছে সোনার হরিণ । ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন বন্ধু শহীদুল আলম পাটোয়ারি ও জনগণের প্রকৃত সেবক পুলিশ কর্মকর্তা জনাব ইউসুফ আলী চৌধুরী পিপিএমকে ।
যাক, সিলেট যাবার টিকেট পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেলেও অস্বস্তির মাত্রা আরো বেশী ? খবর পেলাম ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সিলেটে আবাসিক হোটেলের ভাড়া দুগুণ তিনগুণ বেড়ে গেছে ! প্রচুর ভর্তি পরীক্ষাথীর্দের উপস্থিতি হোটেল মালিক সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে । পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক নিরুপায় । হোটেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মানতে বাধা । এরপরও অস্বস্তি থেকে মুক্তি নাই । টেনশন ? কিভাবে বাকিগুলোতে অংশগ্রহণ করা । বিষম বেকায়দায় আছেন আমার মত ছাত্রী গার্ডিয়ান ।
সকল অভিভাবক আশা করে তার সন্তানকে ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াবে । সেটা না হলে পছন্দের তালিকায় প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । আমার ধারণা, যারা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছে তারা অবশ্যই বাকি ভর্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেনা । তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজাল্ট ঘোষণা করলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ কিছুটা হলেও কমে যেত । দুঃখজনক হলেও সত্যি ! গত মাসের 20 তারিখের অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল এখনও ঘোষিত হয়নি ? দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন-চার ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে । এসব ইউনিটের ফলাফল ঘোষণা হলে ট্রেনের টিকেট, বাসের টিকেট ও আবাসিক হোটেল কিছুটা সহজলভ্য হত ।
অত অস্বস্তির পর কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ । তারা 7টি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । অভিভাবকদের দুর্গতি কিছুটা হলেও লাগব হবে । সেজন্য অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ । একই পদ্ধতিতে যদি অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিত তাহলে আজকে ট্রেন, বাস ও আবাসিক হোটেলে নিয়ে অভিভাবক এবং ভর্তি পরীক্ষার্থীদের মাঝে যে শংকা দেখা দিয়েছে সেটা থেকে রেহাই পাওয়া যেত । আশা করি কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে বিষয়টি ভেবে দেখবেন ।
লেখক: ভর্তি পরীক্ষার্থী অভিভাবক
কুমিল্লা, নাংগলকোট ।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: কামাল উদ্দিন
মোবাইল: ০১৮১৯০৩২০৯০
৬০/বি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হইতে প্রকাশিত। মোবাইল: 01819032090, ইমেইল: [email protected]