কলেজছাত্রীকে কান ধরে উঠবস ! শিক্ষার্থীদেরও একটা সম্মান আছে

কলেজছাত্রীকে কান ধরে উঠবস ! শিক্ষার্থীদেরও একটা সম্মান আছে

 

(মোঃশাহজাহান ভূঁইয়া)
নাঙ্গলকোট উপজেলার হোমনাবাদ আদর্শ ডিগ্রী কলেজের ৫ শিক্ষার্থীকে কান ধরে রোদে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ শুনা গেছে। এর প্রতিবাদে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এ সময় কলেজের মুল ফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অপরাধ তারা বাহিরে গিয়ে নাস্তা খেয়েছে। বিষয়টি অনেকটা লঘু দোষে গুরুদন্ডের মত।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বরখাস্তের দুই বছর পর ফিরে এসেই শিক্ষার্থীদের সাথে অসদাচরণ করতে থাকে। কলেজের ভিতরে কেন্টিন করার জন্য বারবার তাগাদা দিলেও অধ্যক্ষের অনিহায় তা কখনো হয়ে উঠেনি। তাই ছাত্র শিক্ষক সকলে বাধ্য হয়েই বাহিরের দোকানে গিয়ে নাস্তা করতে হয়।
সোমবার কলেজের একাদ্বশ শ্রেণীর ৫ ছাত্রী গেইটের সামনের দোকানে গিয়ে নাস্তা করে আসে। পরে অধ্যক্ষ মীর জাহাঙ্গীর আলম তাদেরকে ডেকে এনে কলেজ মাঠে কান ধরে উঠবস করায় ও পাঁচ মিনিট কান ধরে রোদে দাঁড় করিয়ে রাখে। এর প্রতিবাদ জানালে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শ্যামলকে লাঞ্চিত করে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে অধ্যক্ষ। কলেজের প্রদর্শক আমিনুল ইসলাম ও অধ্যাপক আবু বকর ছিদ্দিক তাকে এসব কাজে সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবী করেন শিক্ষার্থীরা।
এসব ঘটনার পর সকল ছাত্র-ছাত্রী মিলে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় তারা কলেজের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রায় ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর গভর্নিং বডির সদস্যগন ও স্থানীয় নের্তৃবৃন্দরা এসে ঈদুল আযহা’র পর কলেজ গভর্নিং বডির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ স্থগিত করা হয়।

ঘটনাটা শুনে অনেকটা বিস্মিত হলাম, শিক্ষকেরা এমন হবে কেন? তাই শুরুতে একটা বিষয় পরিষ্কার করে নেয়া দরকার, শিক্ষকতা কোন পেশা নয়, এটা ব্রত। শিক্ষকতার প্রতি যদি আপনার ভালবাসা না থাকে, তাহলে সেটা আপনার নিকট পেশা ছাড়া আর কিছুই নয়। শিক্ষকদের খেয়াল রাখতে হবে সবাই ভাল ছাত্র হয় না, তবে সবাই ভাল মানুষ হতে পারে। শিক্ষার লক্ষ্য হলো ভাল মানুষ তৈরী করা। আর মানুষ গড়ার মূল দায়িত্ব শিক্ষকদের উপর ন্যস্ত, শিক্ষক নিজে মানুষ হিসেবে কতোটাভালো তার উপর নির্ভর করে শিক্ষার্থী ভালো মানুষ হয়ে উঠবে কিনা।

আর যদি আপনি শিক্ষকতা পেশাকে ভালোবাসতে না পারেন, পাঠদানে আনন্দ না পান তবে মনে করতে হবে শিক্ষকতা পেশা আপনার জন্য নয়। আপনি যেহেতু মানুষ গড়ার কারিগর, তাই আপনাকে সর্বদা সচেতন হতে হবে। আপনার  কোন ভুলের কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।

শিক্ষার্থী অপেক্ষা আপনাকে বেশি পড়তে হবে, জানতে হবে এবং জানাতে হবে। মনে রাখতে হবে  ‍” একজন শিক্ষক সবসময়ই একজন ছাত্র তবে ভালো ছাত্র।’ শিক্ষার্থীরা নিজেরাই শিখবে আপনি শুধু দেখিয়ে দিবেন কীভাবে কীভাবে শিখতে হয়। তাই একজন শিক্ষককে প্রথমেই ভালো মানুষ হতে হবে। তার ব্যক্তিত্ব হবে এমন যেন তার আদর্শে একজন শিক্ষার্থী তার জীবনকে উজ্জীবিত করতে পারে। এক কথায় বলা যায় একজন ভালো শিক্ষক হবে একজন শিক্ষার্থীর কান্ডারী। তাই শিক্ষকদের স্মরণ রাখা দরকার শ্রেণি কক্ষে সকলের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকাটা জরুরী। আপনি যদি ভদ্র ব্যবহার প্রত্যাশা করেন, তবে আপনাকেও ভদ্র ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষার্থী সে যতো ছোটই হোক না কেনো, তারও সম্মান আছে, সেটা তাকে দিতে হবে। কথাগুলো বলার বা লেখার সাহস পেয়েছি একারণে কলেজের অধ্যক্ষ আমার অত্যন্ত কাছের মানুষ এবং রাজনৈতিক সহকর্মী। আমি তাকে অনেক বিচক্ষণ মনে করতাম। কিন্ত কেন যে এ ভুলটা করলো সেটা আমার মাথায় ধরে না। তবে যতটুকু বুঝেছি সেটা মনে হচ্ছে গভীর কোন ষড়ন্ত্রের কবলে পড়ে কলেজ থেকে দুই বছর অনুপস্থিতি তার জন্য নিশ্চয় কষ্টদায়ক। সেই মানসিক যন্ত্রনা থেকে তার ভুল । আমার বিশ্বাস, অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর তার ভুল স্বীকার করে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবে এবং তারাও তাকে ক্ষমা করে দিবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: কামাল উদ্দিন
মোবাইল: ০১৮১৯০৩২০৯০
৬০/বি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হইতে প্রকাশিত। মোবাইল: 01819032090, ইমেইল: [email protected]