উন্নয়নের জোয়ারের পানি সচিবালয়ে- কামাল পারভেজ

উন্নয়নের জোয়ারের পানি সচিবালয়ে- কামাল পারভেজ

আমার পূর্ব পুরুষের বাড়ী কুমিল্লা জেলায় তবে আমার জন্ম চট্টগ্রাম হওয়ায় চট্টগ্রামেই বাসস্থান হয়ে উঠেছে। আমার বাসা থেকে কর্ণফুলী নদী ৮/৯ কিলোমিটার দূরত্ব হবে। অনেক সময় নদীর জোয়ার-ভাটা দেখার জন্য নদীর কিনারায় বসে সময় কাটাই। অবশ্য দিনে একবার জোয়ার ভাটা হয়। খুব সকালে জোয়ার আসে আবার দুপুর ২টার পর থেকে ভাটা হওয়ার পথে। যখন কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার হয়। নদীর পাশে থাকা পাইকারী বাজার চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, বাকলীয়া, বাস্তহারা এসব এলাকায় প্রায় সময় রাস্তাঘাট ডুবে যায় বাড়ী ঘরে দোকানপাট প্রতিষ্ঠানেও জোয়ারের পানি থৈ থৈ করে। সাধারন মানুষের নিত্যই দূর্ভোগ পোহাতে হয়। সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নগরবিদদের প্রতিদিনের পরিকল্পনায় কাগজের স্তুপ পাহাড় সমান হয়ে পড়েছে কিন্তু সুষ্ঠু সমাধানের কোন কুলকিনারাই হচ্ছে না।
যাই হোক গত ২রা আগস্ট ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে। ৩ তারিখের পত্রিকায় চোখ বুলাতেই শিরোণাম “সচিবালয়ে পানি থৈ থৈ”। ভাবতেই পারছি না এরকম কেন হলো। নাকি কর্ণফুলী নদীর পানি ঢাকা সচিবালয় চিনে ফেলেছে। নাকি বিএনপি-জামায়াত নিছক এই ঘটনাটি ঘটালো। সচিবালয়ের হাউজের পানি সেচ দিয়ে সচিবালয় ডুবিয়ে েিত চাইছিলো এটাও হতে পারে। মনে হয় আওয়ামীলীগ একথাটি বলতে ভুলে গেছে এই কাজটি বিএনপি-জামায়াত করেছে। গত ৮ বছর সারাদেশে যে উন্নয়ন হয়েছে আওয়ামীলীগ তা গর্বে গর্বিত। উন্নয়নের ধারা ২০৪২ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে এ আশায় ঘুমের ঘরে স্বপ্নে মুর্ছা যায় আওয়ামীলীগ। উন্নয়নে বদ্ধ পরিকর আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রেখেছে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে আর দেশে উন্নয়ন হয়। এই বক্তব্যটি আমার নয় মাননীয় প্রধানন্ত্রীর। বাহবা দিতে হয় আওয়ামীলীগকে উন্নয়নের ভূমিকায় একধাপ বক্তিতায় এগিয়ে। চার লেনের কাজ; ঢাকা-চট্টগ্রাম ফ্লাইওয়ারের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। কবে নাগাদ কাজের শেষ সমাপ্তি ঘটবে তা বলা বাহুল্য। কাজের বাজেট বাড়বে সেটা কিন্তু থেমে থাকবে না। সেতু মন্ত্রীও প্রত্যেকবার বলছেন, “চার লেনের কাজ প্রায় শেষ”। মাঝে মধ্যে দেখা যায় চারলেনেও উন্নয়নের জোয়ারের পানি থৈ থৈ করছে। দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল করছে হয় খুব সতর্কতায়। কখন জানি বাস নৌকার মতো ভাসতে হয়। আর যদি হাইওয়ে রোড একবার জ্যামলাগে তাহলেতো আর কোন কথাই নেই। দুই থেকে তিন ঘন্টা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে সময় পার করা যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম সময় ৫ ঘন্টায় পৌঁছা যায়। সেখানে এখন ১০/১২ ঘন্টায় পৌঁছা যাবে কিনা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ফ্লাইওভারে কাজ চলছে সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত- উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ফ্লাইওভারের পাশে সাইনবোর্ড দিয়ে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। সাময়িক অসুবিধা কত বছরের জন্য তা কিন্তু নির্দিষ্টভাবে লেখা নেই। ব্যাস হয়ে গেলো চলছে গাড়ী যাত্রাবাড়ীর উদ্দ্যেশ্যে ১০ মিনিটের পথ যত ঘন্টায় পাড়ি দিবেন ও কত ঘন্টায় গন্তব্যস্থলে পৌঁছাবেন তা আর বলা যাচ্ছে না। একি অবস্থা চলছে চট্টগ্রামে জি.ই.সি মোড় থেকে ২নং গেইট পর্যন্ত। পায়ে হেঁটে সময় লাগে ৪/৫ মিনিট বর্তমান গাড়িতে লাগে ২০/২৫ মিনিট। পুরো শহর জুড়ে যানজট লেগেই আছে। ঐযে ওয়াশার চেয়ারম্যান বলছেন জলজট। একিসুর গাইতে শুরু করলেন নগর নারায়ন বাবুরা। তাহলে জলাবদ্ধতা আর বলা যাবে না। চট্টগ্রামেও এবার ভারি বর্ষায় আর জলাবদ্ধতায় নগরের অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষ নৌকায় চলাচল করে কর্মসংস্থানে যেতে হয়েছে। একটানা ৭/৮ দিনেও পানি নিষ্কাশনের কোন পথ খুঁজে পাচ্ছেনা। চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ পাইকারী বাজার জোয়ারের পানিতে ভাসছে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের বাজার চড়া করে তুলল। হঠাৎ পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা পাইকারী। খুচরা বাজারে ৪২ থেকে ৪৫ টাকা হয়ে গেল। ব্যবসায়ীদের কথা হলো ক্ষতিপূরন কি সরকার দিবে? পূর্বের ক্ষতি পুশিয়ে নিতেই বাজার চড়ামূল্যে। সরকারে মতে আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যখনি এধরনে বক্তব্য আসে তখনই অসাধু ব্যবসায়ীরা সরকারের বক্তব্যকে কাজে লগিয়ে দাম বাড়িয়ে দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৪ আগস্টের পর হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৫০ টাকা হয়ে গেল। কাঁচা বাজারের মূল্য এখন নাগালের বাহিরে। কথায় আছেনা পাটা-পুতার ঘষাঘষি মরিচের জীবন শেষ। বড়লোক, এমপি, মন্ত্রী-মিনিষ্টারদের কিছুই যায় আসেনা। এদিকে মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষদের দূর্দশায় জীবন কাটে। অনেক সময় না খেয়ে থাকলে অথবা পরিবার পরিজনদের চাহিদা মিটাতে না পারলেও লজ্জ্বায় কাউকে কিছুই বলতে পারছেনা। সখ আহ্লাদ সাধ্যের নাগালের বাহিরে চলে যায়। সাধারণ মানুষ চায় একটু শান্তি পরিবার পরিজন নিয়ে সুন্দরভাবে বসবাস করা। চায় তারা জীবনের জানমালের নিশ্চয়তা। বর্তমান সে নিশ্চয়তা থেকে হতাশ জনগণ। রাস্তা ঘাটে নিজের জীবন নিয়ে চলাফেরা করা সুষ্ঠুভাবে বাসায় ফিরতে পারবো কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। যুবতী মেয়েকে স্কুল কলেজে পাঠাবে সুষ্ঠুভাবে ফিরে আসবে নাকি নারী খেকো যুবলীগ, ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়ে হয় সে চিন্তায় বাবা মার ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এটাও কি উন্নয়নের তালিকায় আছে নাকি সেটা আওয়ামীলীগই ভালো বলতে পারবে। চারদিক যেমন উন্নয়নের জোয়ার বইছে তেমনী ধর্ষণের জোয়ার ছড়িয়ে দিচ্ছে আওয়ামীলীগের সোনার ছেলেরা। এব্যাপারে কোন নেতা এমপি-মন্ত্রী-মিনিস্টারের মুখে টু-শব্দ নেই। তাদের দলের কোন কর্মীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠলেই কেন্দ্র থেকে বলেদেন ধর্ষণকারী আওয়ামীলীগের কেউ না। সোজা সাপ্টার অস্বীকার করা। এটা অবশ্য আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের দোষ না। অস্বীকার করাটা পূর্বের রেওয়াজ রয়েছে। আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এর জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী কোনটাই পালন করা হয়না। মনে হয় না আওয়ামীলীগের পুরোনো নেতারা তাকে চেনেন। কথায় আছে না আগের হাল যেদিকে যাবে পরের নাঙ্গল হালটাও সেদিকে যাবে। আওয়ামী সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া স্পর্শ ঘাতকতার ছোবলকে আড়াল করে দিতে পাক পবিত্র করতেই সচিবালয়ে পানির আগমন। এটা আগাম বার্তা নিকা সেটাও বুঝা ভরদায়- গঙ্গার জলে ¯œান করার ইংগিত প্রকাশের বহিকি?
লেখক, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: কামাল উদ্দিন
মোবাইল: ০১৮১৯০৩২০৯০
৬০/বি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হইতে প্রকাশিত। মোবাইল: 01819032090, ইমেইল: [email protected]