নবাব ফয়জুন্নেছার ওয়াক্ফ সম্পত্তি মোতয়াল্লী কতৃক আত্মসাৎ পরিবর্তন হচ্ছে মোতয়াল্লী

নবাব ফয়জুন্নেছার ওয়াক্ফ সম্পত্তি মোতয়াল্লী কতৃক আত্মসাৎ পরিবর্তন হচ্ছে মোতয়াল্লী

অধিকার ডেস্ক:-কুমিল্লা জেলা লাকসাম উপজেলায় পশ্চিমগাঁও গ্রামে নবাব ফয়জুন্নেছার দান কতৃ ওয়াক্ফ লিল্লা সম্পত্তি মোতয়ালী কতৃক আতœসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। নবাব ফয়জুন্নেছা গত ১৮৯১ইং সনে তার মালিকানাদীন কিছু সম্পত্তি  তার এক মাত্র কন্যা বদরুন্নেছার চৌধুরানীকে দিয়ে বাকী সকল সম্পত্তি ওয়াক্ফ লিল্লা করে দেয় যার ইসি নং ৫৪৮। নবাব ফয়জুন্নেছা ১৯০৩ সনে মূত্য পর তার একমাত্র কন্যা বদরুন্নেছা মাতার ওয়াক্ফ কৃত সম্পত্তি মোতায়াল্লী হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন। বদরুন্নেছা ৫ ছেলে ২ মেয়ে রেখে মৃত্য বরণ করে। তার এক ছেলে সৈয়দ চেরাজুল হক ওয়াক্ফ এস্ট্রেটের মোতায়ালী নিয়জিত হয়। তার ধারাবাহিক বাভে বতর্মান মোতায়াল্লী হিসেবে নিয়োজিত আছেন সৈয়দ মাহবুবুল হকের ছেলে সৈয়দ মাসুদুল হক।
মাসুদুল হক দায়িত্ব পালন কালে তার বিরুদ্ধে নবাব ফয়জুন্নেছার ওয়ারিশদের থেকে ওয়াক্ফ কতৃ সম্পত্তি আত্মসাদের অভিযোগ উঠেছে।
জানাযায় গত ১৬ জানুয়ারী ২০১৭ইং সনে নবাব ফয়জুন্নেছার বংশদর সৈয়দ রাশেদুল হক, সৈয়দ এনামুল হক, সৈয়দ এজাজুল হক, সৈয়দ গাজীউল হক, সৈয়দ তৌহিদুল হক ও সৈয়দ আজাদুল হক বাদী হয়ে ওয়াক্ফ প্রশাসক ৪ নিউ ইস্কাটন রোড় ঢাকা-১০০০ বরাবরে নবাব ফয়জুন্নেছার ওয়াক্ফ এষ্টেটে মোতায়াল্লী অপসারনের জন্য আবেদন করেন।
আবেদন পত্রে বলা হয় যে, বতমান মোতায়াল্লী সৈয়দ মাহাবুবুল হক দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন অনিয়ম মূলক কাজ করতেছেন। নবাব ফয়জুন্নেছার ওয়াক্ফ সম্পত্তি বে-আইনী ভাবে বিভিন্ন ব্যাক্তির নিকট দলিলের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বতমান বি.এস জরিপে নবাব ফয়জুন্নেছা ওয়াক্ফ সম্পত্তি নিজে এবং তার ভাইয়ে নামে খতিয়ান করে সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে। বতমান মোতায়াল্লী বিরুদ্ধে ওয়াক্ফ অধ্যাদেশ ১৯৬২ইং সনের আইনের ৩২ ধারা অপরাধ প্রতিয়মান হয় এবং ৬১ ধারা মতে একাধিক দোষী সাব্যস্ত মতে অনেক কার্য্য করিয়াছেন বিধায় আমরা বর্তমানের ওয়ারিশগন মোতায়াল্লী অপসারন দাবি করতেছি। উক্ত আবেদনের পরিপেক্ষে গত ৫ মার্চ রোজ রবিবার ওয়াক্ফ পরিশর্দক মো: আলা উদ্দিন সরজমিনে তদন্তে আসে। তদন্তে সময় বতর্মান মোতায়াল্লী সৈয়দ মাহাবুবুল হক ও আবেদনকারীর পক্ষে সৈয়দ এনামুল হক উপস্থিতিত ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনকারী নিকট সম্পত্তি আত্মসাদের কাগজ পত্র চাওয়া হয়। আবেদনকারী সাথে কাগজ পত্র না থাকায় তদন্ত কর্মকর্তা আগামী ১৫ মার্চ মধ্য কাগজ পত্র জমা দেওয়ার জন্য বলেন। আবেদনকারীগন গত ১১ মার্চ ২০১৭ইং সনে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ১৬৭৮৭৫৭৫ নং মেমো মাধ্যমে মো: আলা উদ্দিন ওয়াক্ফ পরিদর্শক চাদঁপুর নিকট ৫ টি খতিয়ান ১ টি দলিল ও ১টি বিএস জরিপের মামলা নকল পাঠায়। ৫ টি খতিয়ানে দেখা যায় যে, বিএস মাঠ জরিপ করা অবস্থায় নবাব ফয়জুন্নেছার নামে কয়েকটি মাঠ খতিয়ান হয় পশ্চিমগাঁও মৌজার  খতিয়ান নং ৫০৪৪ বিএস দাগ নং ৫৯৬১,৫৯৮৪,৫৯৮৯ ও ৬০০৭ মোট ৪টি দাগে জমির পরিমান ৭০০৮ শতক সম্পত্তি নবাব ফয়জুন্নেছা ওয়াক্ফ এস্টেট পক্ষে মোতায়াল্লী নামে হয় এবং মাঠ খতিয়ান ৫৩৭৪ বিএস দাগ নং ৬২৪০ ও ৬০১৬ জমির পরিমান ২২০০ শতক। উক্ত খতিয়ান হইতে ডিভি খতিয়ান ২০ যাহা বতমানের চুরান্ত খতিয়ান নং হিসাবে ব্যবহার হবে। উক্ত দুটি খতিয়ান নবাব ফয়জুন্নেছা ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে হয়। কিন্ত মোতায়াল্লী ১৮২৮৫/১০ নং মামলা উক্ত সম্পত্তি মোতায়াল্লী নিজ ও তার ভাইয়ের নামে ভুয়া মোতায়াল্লী বানিয়ে সম্পত্তি নিজেদের নামে রেকট করে নেয়। উক্ত মামলার বাদী পক্ষগন হলেন (১) আবুল কালাম পিতা তৈয়ব আলী (২) সালেহ উদ্দিন পিতা আবদুল মোতালেব(৩) সৈয়দ মাসুদুল হক (৪)  সৈয়দ কামরুল হক,পিতা মাহবুবুল হক সাং নিজ। বিবাদী নবাব ফয়জুন্নেছা ওয়াক্ফ এস্টেট পক্ষে মোতায়াল্লী। কিন্ত নবাব ফয়জুন্নেছার ওয়াক্ফের মোতায়াল্লী মামলা ৩নং বাদী সৈয়দ মাসুদুল হক। নিজে মোতায়াল্লী হয়ে মোতায়াল্লী বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার বিবরনে দেখা যায় যে গত ৩১ মে ২০১০ইং সনে মামলা সুনানি দিন ধাষ্য করেন। মামলা সুনানিতে বাদী/বিবাদী পক্ষগন হাজিরা দেয়। বাদীর দাবী নবাব ফয়জুন্নেছা ওয়াক্ফের এস্ট্রেটের নামে উলেখ্যা ভুমি ভুল বসত রেকর্ড হয়েছে বলে দাবী করেন।  মামলা বিবাদী নবাব ফয়জুন্নেছা ওয়াক্ফ এস্ট্রেট  পক্ষে মোতায়াল্লী দেলোয়ার হোসেন সবুজ জানান অত্র ভূমি ওয়াকফকৃত সম্পত্তি নহে। ভুলে ওয়াকফ এস্টেটের নামে রের্কড হওয়ায় তাহার দাবী নাই বলিয়া জানান। কিন্ত দেলোয়ার হোসেন সবুজ  নবাব ফয়জুন্নেছা ওয়াকফের কোন ব্যাক্তি নহে। বতমান মোতায়াল্লী ভুয়া ব্যাক্তি দিয়ে নবাব ফয়জুন্নেছা ওয়াক্ফ সম্পত্তি নিজে এবং তার ভাই ৪ বাদী সৈয়দ কামরুল হক ও ১নং বাদী আবুল কালামের নামে বিএস খতিয়ার করেন। উক্ত সম্পত্তি মোতায়াল্লী ওয়াকফ এষ্ট্রেটের অনুমোদন না নিয় বিক্রয় করেন দেয়।
এ ব্যপারে বতমান মোতয়াল্লী সৈয়দ মাসুদুল হক আমাদের অধিকারকে বলেন, আমি ওয়াক্ফ কোন সম্পত্তি আত্মসাৎ করিনাই এবং সম্পত্তি বিক্রয় করার কোন অনুমোদন আমি ওয়াক্ফ প্রশাসন থেকে পাই নাই। আমি ওয়াক্ফ সম্পত্তি বিক্রয় করি নাই।
এ ব্যপারে ওয়াক্ফ পরিদর্শক মো: আলাউদ্দিন যানান, আমারা তদন্ত করতেছি। মোতয়াল্লী ওয়াক্ফ সম্পত্তি বিক্রয় করার কোন অনুমোদন নেয়। আমার কাছে যে কাগজ পত্র ওয়ারিশগন দিয়েছে তা তদন্ত করে প্রমান পেলে আমরা মোতায়াল্লী বিরুদ্ধে আইগত ব্যবস্থা নিবো।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: কামাল উদ্দিন
মোবাইল: ০১৮১৯০৩২০৯০
৬০/বি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হইতে প্রকাশিত। মোবাইল: 01819032090, ইমেইল: amaderodhikar@gmail.com