৭ ই মার্চের ভাষনের চেতনায়——-শাহজাহান ভূঁইয়া

৭ ই মার্চের ভাষনের চেতনায়——-শাহজাহান ভূঁইয়া

১৯৭১ সালে আমি ৬/৭ বছরের শিশু। মুক্তিযুদ্ধের কিছু স্মৃতি মাঝে মাঝে চোখ বুঁজে চিন্তা করি। স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠার সাথে সাথে মুক্তিযুদ্ধাদের মুখ থেকে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী শুনেছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষন টেপ রেকর্ডে শুনে আওয়ামীলীগ  মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার নৌকা প্রতীকের পক্ষে মিছিল মিটিং সমাবেশে উপস্থিত হয়েছি। আমাদের পাশের গ্রামের আইটপাড়ার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক ভাইয়ের (বর্তমানে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক) কন্ঠে কন্ঠে মিলিয়ে মিছিল করেছি এবং মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি কাহিনী ওনার মুখ থেকে শুনেছি। রাজ্জাক ভাইয়ের  নিকট শুনেছি আমাদের দৌলখাঁড় গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল আলম ওরফে আকমত আলী দারোগার কথা। ছোট বেলায় বাজারে যাওয়ার সাহস পাইনি,সে কারনে আকমত আলী দারোগাকে স্বচক্ষে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। এলাকার মানুষজন এখনও বলে আকমত আলী দারোগা ছিলেন নাকি আফগানিস্তানের আবদুর রহমানের মত সাড়ে ছয় ফুটের থেকে ৭ ফুট লম্বা। বিভিন্ন ভাষার উপর ছিলেন পারদর্শী। আমাদের এলাকা ছিল রাজাকার অধ্যুষিত এলাকা। রাজাকারদের ষড়যন্ত্রে পাকিস্তানী  হানাদার বাহিনী আকমত আলীকে তুলে ঢালুয়া নামক স্থানে মেরে লাশ গুম করে ফেলে। অদ্যাবধি মুক্তিযোদ্ধা আকমত আলী দারোগার সমাধিস্থল চিহ্নিত করা  হলেও স্থানাস্তরের উদ্যোগ রাষ্ট্র বা পারিবারিক কেউ নেয়নি। আমাদের গ্রামের আরেক মুক্তিযোদ্ধা যিনি আমার আত্মীয় অর্থাৎ আমার জেঠাতো ভাই মিলন মাহমুদের খালু। আমাদের বাড়ির ঠিক পূর্ব পাশে ওনার বাড়ী। নাম মো: ছোয়াবের রহমান মজুমদার। বর্তমানে তিনি জীবিত নাই। মাত্র কয়েক বছর আগে মৃত্যুবরন করেন। শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে শেষ বয়সে অনেক কষ্ট করেছেন। তিনি অত্যন্ত সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন । বিশেষ করে উনার কর্মকান্ডের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে। বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা জনাব ছোয়াবের রহমান মজুমদার হাতিয়ার কাঁেধ নিয়ে প্রায় আমাদের বাড়ীতে আসতেন এবং পরিবারের সকল সদস্যদের সাহস দিতেন। আমাদের বাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধার আনাগোনার খবর পেয়ে পাক হানাদার বাহিনী আমাদের বাড়ী আক্রমনের প্রস্তুতি নেয়। শিশুকাল হিসেবে আমার যতটুকু মনে পড়ে বাড়ীতে তখন পুরুষ কোন লোক ছিল না। বাড়ীর মহিলারা সব এক জায়গায় অর্থাৎ বজল ভাইয়ের ঘরের এক কোনায় আশ্রয় নেয়। মাঝে মাঝে আমার চাচাতো চাচা আব্দুল মালেক এসে সাহস দিতেন। ভয় করো না। বাড়ীতে কোন পুরুষ লোক নেই এ কারনে তারা অর্থাৎ পাঞ্জাবীরা চলে যাবে। তবে আগামী দুই একদিনের মধ্যে আবার আসবে বলে হুমকি দিয়ে গেছে। বাড়ীতে পুরুষ শূন্য। আমার আম্মা সহ সবাই সিদ্ধান্ত নিল সন্তান সন্তুতি নিয়ে দুই কিলোমিটার দক্ষিনে সেনবাগ উপজেলার পরিকোট গ্রামে আশ্রয় নিবে। পরিকোট গ্রামটি নিরাপদ স্থান। ওই গ্রামের বেশীর ভাগ লোক ছিল মুক্তিযোদ্ধা। পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রন করত পরিকোট গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা। ঐ অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিতেন কেশারপাড় গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ২ নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার মো: রুহুল আমিন। জনাব রুহুল আমিন কে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। তিনি যখন চট্রগ্রামে বাংলাদেশ ষ্টীল মিলে কর্মরত। তখন আমার এক মামা উনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। গত কয়েক বছর আগে তিনি মৃত্যুবরন করেন। আরো বেশ কয়েকজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ছেরু মুহুরীর ছেলে বাচচু ভাই ছিল অন্যতম। আমার এক ফুফুর স্বামীর বাড়ী পরিকোট গ্রামে। এ কারনে আমাদের আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত। যতটুকু মনে পড়ে আমার আম্মা আমার বড় ভাই হুমায়ুন, আমি ও আমার ছোট বোন পারুলকে নিয়ে বাড়ীর অন্যদের সাথে একত্রিত হয়ে আমাদেরকে নিয়ে পরিকোট চলে যায়। আমার বোন পারুল ছিল কোলে। সেখানে অনেকজনের উপস্থিতিতে আমার ফুফু, ফুফা, ফুফাতো ভাই বোনদের কোনরুপ বিরুক্তিভাব দেখিনি। ঐ খানে যাওয়ার পর আর কিছুই দেখতে পারি নাই। লোক মুখে শুনেছি পাক বাহিনীদের বর্বরোচিত হামলার কথা। তারা বটতলী বাজারে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কোন চিত্র না দেখলেও কিন্তু নাড়া দেয় বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চের ভাষন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। মুক্তির সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম যেন একরাশ শুভ বলাকার বন্ধনহীন শাখা মেলে নীলাম্বর উড়ে চলার আনন্দ উন্মত্ত্বতা। চোখ বুঁজে ধরা ছোঁয়ার বাইরে সেই এক ঝাকঁ বলাকার আনন্দানুভূতি হৃদয়ে ধারন করেছিল। একদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালী। নিজের ভাষা সংস্কৃতি আর সম্পদ নিয়ে আত্মপ্রকাশ এর আকাঙ্খা নিয়ে দুইশত বছর ধরে স্বপ্ন এঁকেছিল বাঙ্গালী। ১৯৭১ সালে সেই স্বপ্নেরই বাস্তব প্রতিফলন ঘটে। ঘাত-প্রতিঘাতের বাধা বিঘেœর দেয়াল অতিক্রম করে ব্রজের হুংকার মৃত্যুভয়কে তুচছ করে মরনপন করে অস্তিত্বকে পরিচয় পত্র প্রদান করলো বাঙ্গালী। বাংলা মায়ের সবুজ রক্ত রঙ্গিন করে রক্তে আগুনে প্রতিরোধ প্রতিশোধে ক্ষোভে যন্ত্রনায় ফেটে পড়েছিল অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে। কামান মেশিনগান,অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল লাঠিসোঁটা আর ন্যায় নিষ্ঠার শানিত চেতনায়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় বাঙ্গালী জাতির স্বজাতি তত্ত্ববোধকে  বিলুপ্ত করার সুদীর্ঘ, সুকঠিন, ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল বাঙ্গালী। ইংরেজ জমিদার আর র্ববর পাকিস্তানীদের দাসত্ব শৃংখল ভেঙ্গে বিজয়ের মুকুট পরে রক্তাক্ত আর্দশের পতাকা তুলে ধরেছিল বাঙ্গালী সেই তো ৭১ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাস আরো সাক্ষ্য দেয় ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয় আর মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয়। এরপর ১৯৬৬ এর ছয়দফা, ১৯৬৯ সালের গনঅভূ্যূর্ত্থান, ১৯৭১ সালের চুড়ান্ত বিজয় বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলো বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ অথার্ৎ বাংলার স্বাধীনতা। ১৯৪২ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ২৯ বছর ধরে চোঙা মুখ দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় হেটে জেল জুলুম সহ্য করে তিনি প্রধান যে কাজটি করেছিলেন তাহলো বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদে উদ্বূদ্ধ শোষিত বাঙ্গালীদের একত্রিতকরন। ১৯৭১ এর পরবর্র্তী রাজনীতিতে তার সেই একই ধারায় প্রবাহিত হয়েছিল। তার প্রথম বিপ্লব ছিল ঐক্যবদ্ধ বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতা প্রদান। আর দ্বিতীয় বিপ্লব ছিল দেশপ্রেমিক ঐক্যবদ্ধ বাঙ্গালীর মুক্তি তথা অর্থনৈতিক মুক্তি প্রদান। তাই পরিষ্কার বলা যায় বঙ্গবন্ধুর চেতনাই ছিল সমগ্র বাঙ্গালীর স্বাধীনতার  চেতনা। বঙ্গবন্ধুর সংকল্পই ছিল আমাদের মুক্তির সংকল্প। বাঙ্গালী জাতি মরন ভয়কে তুচছ জ্ঞান করে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনে লক্ষ্যভষ্ট হয়ে অন্ধকারে হাবুডুবু খেতে শুরু করল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের পর। জাতির আলোক বর্তিকা নিভিয়ে গেল বঙ্গবন্ধুকে হারানোর পর। এদেশের নিপীড়িত জনতার ভাগ্য বিড়ম্বনা ১৯৭৫ সালের পর প্রতিষ্ঠিত রুপ নিল। ক্ষমতার হাত বদলে দূর্নীতি আর নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠা পেল। আজ আমরা ভুলে গেছি সেই সব ১৯৭১ সালের পর হৃত সবর্স্ব সাধারন মানুষগুলোর কথা, স্বাধীনতাকামী মানুষ গুলোর কথা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছে তাদের কথা, ভুলে গেছি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকমত আলী দারোগার কথা,ভুলে গেছি সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ছোয়াবের রহমানের কথা। আজকে যারা মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ব্যানারে জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরন করে না! দুঃখ লাগে তাদের এহেন আচরনে কষ্ট লাগে, যখন বক্তব্যের সমাপ্তিতে জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু শ্লোগানে বক্তৃতা শেষ করে না। ভাবতে অবাক লাগে তারা কিভাবে  সে সংগঠনের ব্যানারে মনোনয়ন পায়। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস যারা তুলে ধরবে তারা যদি না বলে তাহলে প্রজন্ম জানবে না মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। একদিন হয়ত বিলুপ্ত হয়ে যাবে সেই ইতিহাস। আমার বাবা চাচাদের মুখে শুনেছি ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ তিতিক্ষার কথা। আমার দুই চাচা সফিকুর রহমান ও তাজুল ইসলাম ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অন্ধ ভক্ত। সফিকুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সহকারী অর্থাৎ দূত ছিলেন। এ কারনে আমাদের পরিবারের সকল সদস্যই বঙ্গবন্ধুর ভক্ত হয়ে আওয়ামীলীগ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত। বিভিন্ন মান অভিমানে জেটাত ভাই আওয়ামীলীগ ত্যাগ করে অন্যদলে চলে যায়। তিনি এক সময়ে ছাত্রলীগ করতেন, দৌলখাঁড় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। অল্প বয়সে ইউপি চেয়ারম্যান নিবার্চন করে বিজয়ী হয়েছিলেন। সে বিজয় ছিনতাই হওয়ায় রাগ করে দলবদল করেন। মিলন মাহমুদ রাগ করে দলবদল করলেও পরিবারের আর কোন সদস্যকে দলে ভিড়াতে পারেনি।  এখন মিলন মাহমুদ একজন অন্যদল করার  কারণে মাঝে মাঝে আমাদের খেসারত দিতে হয়। অথচ আমি নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক ছিলাম। এর আগে ইউনিয়ন আ’লীগের সেক্রেটারী ও উপজেলা আ’লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। আমার চাচাতো ভাই জামাল উদ্দিন অর্থাৎ চাচা সফিকুর রহমানের বড় ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ছিলো। আরেক চাচাতো ভাই ফয়সাল হোসেন টিটু শেখ রাসেল স্মৃতি সাংসদের সভাপতি ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। আমার ছোট ভাই মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া উপজেলা ছাত্রলীগের করিম-আলম কমিটির কোষাধ্যাক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। আওয়ামীলীগের নামধারী কিছু সুবিধাভোগী নেতা চায় না আমরা আওয়ামীলীগ করি, কারন আমাদের পরিবারের কোন সদস্য চাটুকারিতা জানে না,ফলে সুবিধা ভোগীরা আমাদের মাঝে ফাটল ধরাতে আত্মকলহের সৃষ্টি করাতে চায়। অবশেষে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গঠনতন্ত্র বহির্ভূত ভাবে ২০১৩সালে ৮ই নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবকলীগের বর্ধিত সভায় জেলা আহবায়ক আবদুর হাই বাবলু আমার পদের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষনা করে এবং ৩দিন পর আমাকে বাদ দিয়ে আমার সময়ের সদস্য সচিবকে আহ্বায়ক করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করে। এখন প্রশ্ন হলো? যারা আওয়ামীলীগ শিবিরে ভাঙ্গন ধরাতে চায় তারা আওয়ামীলীগ এর শুভাকাঙ্খী হয় কিভাবে? এখন দেখা যাচ্ছে তারাই আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব নিতে চায়। ছাত্র জীবনে খুবই সাধাসিধে ছিলাম। ফুটবল খেলার প্রতি আকর্ষন ছিল বেশী। ১৯৮৮ সালে সাইকেল থেকে পড়ে হাঁটুতে আঘাত পাওয়ায় ফুটবলে লক্ষ্যস্থানে পৌছতে পারিনি। রাজনীতিতে কোন লক্ষ্য ছিল না, শুধু বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষন ও মুক্তিযু্েদ্ধর চেতনা মাঝে মাঝে নাড়া দিত। যখন শ্রদ্ধেয় মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক ভাই জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার নৌকা প্রতীকের পক্ষে মিছিল মিটিংয়ে ডাক দিত, দেরী না করে ছুটে যেতাম। মনে পড়ে ১৯৮৬ সালে সংসদ নিবার্চনের সময় আমি তখন কলেজের ছাত্র। ভোটের দিন আমাদের কোন লোক কেন্দ্রের ধারে কাছেও ভিড়তে পারছে না। আমাদের পাড়ার অলি আমার অপেক্ষায়, কারন সে প্রতিবারই ভোট কেন্দ্রে এজেন্টের দায়িত্ব পালন করে, তাকে ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দিল। তখন জাতীয় পার্টির একক আধিপত্য। আমাদের দৌলখাঁড় পূর্বপাড়ার কাশেম মেম্বার জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী লোক (বর্তমানে মরহুম)। পরবর্তীতে ব্যাংকার আবদুর রশিদ ভূঁইয়া, তার চাচাতো ভাই আবদুল খালেক (তিনিও মরহুম), ও আমাদের পাড়ার লোকজন সংঘটিত হয়ে কেন্দ্রে অবস্থান সৃষ্টি করি। সে নিবার্চনে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া মাত্র সতেরশত ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। পরাজয়ের খবর শুনে শোকে কাঁদতে থাকলে ভোলাকোটের কবির কাকা আমাকে সান্তনা দেয়। ৮৬ সালে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। তবে আমার বাবার সাথে খুবই ঘনিষ্ঠতা ছিল। আমার বাবা জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার খুব ভক্ত ছিলেন। বাবার পরিচয়ের সুবাধে ১৯৯১ সালে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার সাথে ঢাকায় গুলিস্থান পার্টি অফিস সংলগ্ন এলাকায় আমার পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা। বাবার মুখে শুনেছি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াও ছিলেন একজন সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা। আজকে আমার বাবা আবদুর রাজ্জাক ভূঁইয়া ওরফে রাজ্জাক মেম্বার বেঁচে নেই, এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াও বেঁচে নেই। ২০০৫ সালের ২৭ শে জানুয়ারী জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া মৃত্যুবরন করেন। আর আমার বাবা ২০০৭ সালের ১৫ জানুয়ারী মৃত্যুবরন করেন। আমি উভয়কে এবং বঙ্গবন্ধুসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধার সহিত স্মরন করে সকলের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার কাছে শুনেছি মুক্তিযুদ্ধের কথা। শুনেছি আকমত আলী দারোগার সাহসের কথা। আরো শুনেছি আমাদের যু্েদ্ধ আমেরিকার শত্রু সৈন্যকে সপ্তম নৌবহর প্রদান আর রাশিয়া আমাদের পক্ষে সাবমেরিন পাঠানোর ইতিহাস। জেনেছি শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর প্রতিশ্রুতির কথা। তিনি নিশ্চিত করেছেন বাংলার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিবেন সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর নয়নের মনি শেখ মুজিবকে। সে থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি আওয়ামীলীগ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার কাজে। প্রার্থনা করি কোন ষড়যন্ত্র যেন আওয়ামীলীগের ছাউনি থেকে আমাদেরকে তাড়ানোর সুযোগ না পায়। চেষ্টা করে যাবো শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকমত আলী দারোগার স্মৃতি রক্ষার্থে হাসানপুর-দৌলখাঁড়-কানকিরহাট সড়ক তার নামে নামকরনের। চেষ্টা করে যাবো মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ছোয়াবের রহমান মজুমদারের নামে দৌলখাঁড়-উল্যাখালী সড়ক তার নামে নামকরনের। চেষ্টা করে যাবো মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক ভাইয়ের নামে দৌলখাঁড়-বক্সগঞ্জ সড়কটি নামকরনের। তাহলে হয়ত তাদের ত্যাগ অমর থাকবে এবং আত্মা শান্তি পাবে আর আমরাও তৃপ্তি পাবো। আজকে অবাক লাগে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির ঘৃন্য নাগপাশ আর ষড়যন্ত্রের কবলে এখনো বাংলাদেশ। আমাদের স্বাধীনতা আর মুক্তি সংগ্রামের শুভ বলাকার পাখা মেলে ওড়ার আনন্দ পেতে হলে আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে,তরুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে,যে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ ১৯৭১সালের ১৬ ই ডিসেম্বর পূর্নাঙ্গ রুপ নিল,সেই জাতীয়তাবাদী শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। সর্বোপরি আমাদের বাঙ্গালী ঐক্য চেতনাকে মজবুত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষনের মর্মকথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
লেখক: বিদায়ী আহবায়ক নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী প্রচার লীগ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: কামাল উদ্দিন
মোবাইল: ০১৮১৯০৩২০৯০
৬০/বি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হইতে প্রকাশিত। মোবাইল: 01819032090, ইমেইল: amaderodhikar@gmail.com